জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জ্বালানি ট্যাংকার ধ্বংসের পাল্টাজবাব
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরমে! পাঁচ তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের জবাবে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান।
জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক ইরানের পাঁচটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের ঘটনার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে গতকাল বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এ ঘটনা নতুন করে রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াল বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পাল্টাপাল্টি হামলার বিবরণ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপট:
- ইরানের দাবি ও হামলার অস্ত্র: আইআরজিসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে এ হামলায় তাদের নতুন প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’ ব্যবহার করা হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাংকার আক্রমণ: চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী লোহিত সাগরে থাকা পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
- জর্ডান ঘাঁটিতে প্রতিশোধ: নিজের তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার পরপরই জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তীব্র পাল্টা আক্রমণ চালায় আইআরজিসি।
- আঞ্চলিক নিরাপত্তার সংকট: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলা ও জ্বালানি পরিবহনে সরাসরি আঘাতের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা সংকট এখন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এ হামলায় কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
