সম্পাদকের পছন্দ

ঐতিহ্যের স্মারক রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি: রাজপ্রাসাদ থেকে বিদ্যাপীঠ

৩ মিনিটে পড়ুন৪ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে শান্ত নদী শীতলক্ষ্যার পূর্ব তীরে সগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে শতবর্ষী প্রাচীন স্থাপত্য ‘মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি’ (যা মুড়াপাড়া রাজবাড়ি নামেও পরিচিত)। ভিক্টোরিয়ান ও ঔপনিবেশিক ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে নির্মিত এই রাজপ্রাসাদটি বর্তমানে উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ‘সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জমিদারির সূচনা ও প্রাসাদের ইতিহাস
উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ১৮৮৯ সালে নাটোর এস্টেটের সাবেক কোষাধ্যক্ষ রামরতন ব্যানার্জী এই প্রাসাদের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তীতে তাঁর উত্তরসূরি প্রতাপচন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৯৯ সালে প্রাসাদটি সংস্কার করেন এবং তাঁর ছেলে জগদীশচন্দ্র ব্যানার্জী ১৯০৯ সালে প্রাসাদটির মূল দ্বিতল অবকাঠামো সম্পন্ন করেন। তৎকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রভাবশালী এই জমিদার পরিবার এলাকা জুড়ে তাঁদের আধিপত্য বিস্তার করেন।
স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতা
চিত্রের মতো সুন্দর এই লাল-সাদা দোতলা রাজপ্রাসাদটিতে মোঘল ও ইউরোপীয় রীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়।
ভিতর ও বাহিরের নকশা: প্রাসাদের সামনের অংশে টানা ১০ ফুট চওড়া বারান্দা ও করিন্থিয়ান স্তম্ভের সারি রয়েছে। বারান্দার খিলানে রঙ-বেরঙের কাচের কাজ ও কারুকাজ আঁকা কাচ মোজাইকের মতো আলো তৈরি করে।
প্রাঙ্গণ ও জলাশয়: প্রায় ১৯.৫ একর জমির ওপর নির্মিত এই কমপ্লেক্সে ২টি সুবিশাল দিঘি বা পুকুর এবং একটি প্রাচীন মন্দির রয়েছে।
দেশভাগ ও পরবর্তী রূপান্তর
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর এবং পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে জমিদার পরিবার সম্পত্তি ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর প্রাসাদটি সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ভবনে শরণার্থীদের আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়।
রাজবাড়ি থেকে সরকারি বিদ্যাপীঠ
এলাকার শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ১ জুলাই স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী মানুষদের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী এই জমিদার বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুড়াপাড়া কলেজ’। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট কলেজটি জাতীয়করণ করা হয় এবং নতুন নামকরণ হয় ‘সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ’
বর্তমানে ঐতিহাসিক এই প্রাসাদিক মূল ভবনের পাশাপাশি আধুনিক একাধিক ভবনে অনার্স ও মাস্টার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ৬ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক অনন্য মিশেল হিসেবে নারায়ণগঞ্জের এই রাজবাড়িটি পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি স্থান।

Tanvir Ahmed

বিশেষ প্রতিবেদন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।