নিত্যপণ্যের বাজারে আবার ধাক্কা: বেকারি পণ্যের দাম বাড়ল ২০ শতাংশ পর্যন্ত
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ সামলাতে যখন হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তখনই নতুন করে বাড়ানো হলো বেকারি পণ্যের দাম। ফলে প্রতিদিনের নাশতা কিংবা চায়ের টেবিলের পাউরুটি, বিস্কুট, কেক ও চানাচুর কিনতে এখন ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির ঘোষণায় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এসব পণ্যের দাম।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সমিতি দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন নির্ধারিত দর কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ১০০ টাকার দুই পাউন্ডের পাউরুটি ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা এবং ৫০ টাকার এক পাউন্ডের পাউরুটি ৬০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, বাটার বন ও চানাচুরসহ স্থানীয় চায়ের দোকানের ১০ টাকার কিছু পণ্যের দাম বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, “উৎপাদন খরচ ও কারখানা পরিচালনা ব্যয় সামাল দিতে না পেরে দাম সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না। কোথাও সরাসরি দাম বাড়ানো হয়েছে, আবার কোথাও পণ্যের ওজন কমানো হয়েছে।”
এদিকে বেকারি পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধিতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা। টানা দাম বাড়ার কারণে দৈনন্দিন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তাঁরা। অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ও চায়ের দোকানিরা জানিয়েছেন, দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে এবং অনেক ক্রেতাই পণ্য না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। তবে মালিক সমিতির নতুন এই দর সব বেকারি পুরোপুরি মানছে না; অনেক এলাকায় আগের নির্ধারিত দামেই বিক্রি হওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তিও দেখা গেছে।
