ব্যাংক তহবিলের ২৭৬ কোটি টাকা ট্রাস্টে: শেখ হাসিনা, রেহানা ও নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অর্থ সংগ্রহ ও ৬৭ কোটি টাকার ভাউচারবিহীন ব্যয়ের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপে দুর্নীতি দমন কমিশন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার কমিশনের অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলাটি রুজু করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধান তথ্যে উঠে এসেছে, দেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ওই বিশাল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। ব্যাংকারদের সংগঠন বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় পূর্বনির্ধারিত কোনো আলোচ্যসূচি না থাকা সত্ত্বেও কেবল ‘বিবিধ’ আলোচনার অজুহাতে এই অর্থ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন সিএসআর নীতিমালা পর্যালোচনা করে দুদক নিশ্চিত হয়েছে যে, ওই তহবিল থেকে ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদান দেওয়ার কোনো বৈধ বা স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। মূলত বিএবির তৎকালীন সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় ব্যাংকগুলো থেকে নিয়ম ভেঙে এই ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়।
অর্থ সংগ্রহের অনিয়মের পাশাপাশি ট্রাস্টটির বিশাল অঙ্কের ব্যয়ের হিসাব নিয়েও বড় ধরনের অসঙ্গতি উন্মোচন করেছে দুদক। ২০১৬-১৭ করবর্ষ থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের দাখিল করা আয়কর বিবরণী অনুযায়ী মোট ৬৭ কোটি ৫৩ লাখ ৬২ লাখ ৪৪৯ টাকা ব্যয়ের তথ্য দেখানো হয়। তবে এই বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে কোনো বৈধ ভাউচার বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। দুদক থেকে নথিপত্র চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো উপযুক্ত প্রমাণাদি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সার্বিক প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
