আইডিয়া থাকলেই মিলবে ২০ লাখ টাকা: তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সুযোগ
উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় ৫০% ঋণ ও ৫০% অনুদান পাবেন উপজেলা পর্যায়ের উদ্যোক্তারা
পুঁজি আর অভিজ্ঞতার অভাবে কি থমকে আছে আপনার নতুন কোনো ব্যবসায়িক ভাবনা? উপজেলা পর্যায়ের তরুণদের সেই স্বপ্ন পূরণে এক নতুন পথ দেখাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাস্তবসম্মত কোনো বিজনেস আইডিয়া থাকলেই তরুণ উদ্যোক্তারা পাবেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা, যার অর্ধেকই দেওয়া হবে অফেরতযোগ্য অনুদান হিসেবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ শীর্ষক বিশেষ এই প্রকল্পের আওতায় ব্যাংকগুলো সরাসরি উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে।
‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের প্রধান সুবিধাগুলো কী কী?
প্রকল্পটির অধীনে একজন উদ্যোক্তা তার ব্যবসার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার ফান্ড পাবেন। এই ফান্ডের ৫০% দেওয়া হবে ঋণ হিসেবে এবং বাকি ৫০% দেওয়া হবে এককালীন অনুদান হিসেবে।
সুদের হার: গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মুনাফা বা সুদের হার থাকবে সর্বনিম্ন ৪% থেকে সর্বোচ্চ ৭%।
জামানতহীন সুবিধা: এই ঋণ নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের সহায়ক জামানত (Collateral) জমা দিতে হবে না।
প্রশিক্ষণ ও সাপোর্ট: শুধু টাকা দিয়েই ব্যাংক থেমে থাকবে না। বিজনেসের ট্রেড লাইসেন্স বা নিবন্ধন, প্ল্যান তৈরি, অভিজ্ঞ মেন্টর দিয়ে দিকনির্দেশনা ও প্রোডাক্টের বাজারজাতকরণে দেওয়া হবে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে তার অনুদানের অংশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সুদবিহীন ঋণে পরিণত হবে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তি খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং পরবর্তীতে আর কোনো ব্যাংক ঋণ পাবেন না।
কারা এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন?
যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং যারা সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা, তারা আবেদন করতে পারবেন। ব্যবসায় কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নেই—শুধু একটি বাস্তবায়নযোগ্য আইডিয়াই যথেষ্ট।
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পশুপালন, মৎস্য চাষ, হস্তশিল্প, পর্যটন, প্রযুক্তি কিংবা সেবা খাতসহ যেকোনো বৈধ ব্যবসার আইডিয়া নিয়েই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবেদন করা যাবে।
কবে ও কীভাবে আবেদন করবেন?
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচির বিস্তারিত সার্কুলার জারি করা হবে। সার্কুলার প্রকাশের পর থেকে ১ মাসের মধ্যে নিজ এলাকার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে নির্ধারিত ফরমে বিনামূল্যে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের ৮টি নির্দিষ্ট জেলায় (মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণা) এই প্রজেক্ট শুরু হচ্ছে। সেখানকার ৬৪টি উপজেলার প্রতিটি থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণকে প্রথম ধাপে নির্বাচন করা হবে। পরবর্তীতে দেশের সব উপজেলায় এটি ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে ফান্ডের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
