টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি

২ মিনিটে পড়ুন১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেনাসদস্যের নাম সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭)।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র পাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে সৈনিক তিতাস শেখের বাম কাঁধে গুলি লাগে। তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক এবং চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।

এক তরুণ সেনাসদস্যের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।


Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।