কুমিল্লায় এক রাতে ২৯৯ জন আটক, ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

৩ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা জেলায় মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও ছিনতাই প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ পুলিশি অভিযানে এক রাতেই ২৯৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্য ১৪০ জনকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অভিযানের এ তথ্য জানান।

দুই মাসের বেশি সময়ের অভিযানে আটক ৬ হাজার ৮৫৭

জেলা পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৮৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২ হাজার ৮৯৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, শুধু সর্বশেষ রাতের অভিযানেই নয়, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালাচ্ছে জেলা পুলিশ।

অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক কারবার, ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন এলাকাগুলোকে অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের সময় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক কারবার ও ছিনতাই প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।