মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর

৫ মিনিটে পড়ুন৪ বার পড়া হয়েছে

মোংলা বন্দরকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তিনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরটিতে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক পণ্য ওঠানামার অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ আশপাশের অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বন্দরটির আধুনিকায়ন দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ জন্য বন্দরের নাব্যতা, নৌযান চলাচলের নিরাপদ চ্যানেল, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

কামালাপুর থেকে মোংলা বন্দরে সরাসরি কনটেইনার ট্রেন

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কামালাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো থেকে সরাসরি কনটেইনারবাহী ট্রেন মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে।

এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং মোংলা বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা উন্নয়নে সরকার কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনাও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পাশাপাশি দেশের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, খুলনা অঞ্চলে একসময় অসংখ্য কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল। সরকার ওই অঞ্চলের শিল্প ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে স্থানীয় শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থসামাজিক সুফল বয়ে আনতে পারে।

পরিবেশ ও নিরাপত্তায় গুরুত্ব

প্রকল্পের সফলতা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বন্দরের সেবার মান বাড়ানো, পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি পরিবেশবান্ধব বন্দরসেবা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জাহাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মান অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জলবায়ুসহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও বাণিজ্য উন্নয়নে চীনের সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ সেবা, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মুস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।