কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন মজুরি নির্ধারণ করবে মজুরি বোর্ড: প্রধানমন্ত্রী
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ড কয়েক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এদিকে নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকরের বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে প্রথম আলো। এর আগে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে শ্রমিকবান্ধব এবং শিল্পবান্ধব মজুরি নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, শুরু হয়েছে কার্যক্রম
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ও অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের অষ্টম নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।
বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।
বোর্ড গঠনের পর গত ৪ নভেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মজুরি নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের অবস্থান ও মতামত তুলে ধরেন।
ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের বিষয়ে ঐকমত্য
মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করার বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন। সে অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের বেতন জানুয়ারিতে পরিশোধের সময় বর্ধিত মজুরি পাওয়ার কথা শ্রমিকদের।
শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সভায় শ্রমিকপক্ষের লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম সামছুদ্দিনও ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানিয়েছেন।
মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী জানান, আগামী সপ্তাহে বোর্ডের পরবর্তী সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও সুপারিশ নেওয়া হবে। সাধারণত কোনো শিল্প খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় মাসের সময়সীমা থাকলেও এবার দ্রুততম সময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি শ্রমিকদের
পোশাকশ্রমিকদের একটি অংশের দাবি, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ দাবিতে রাজধানীর মিরপুরসহ সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও আন্দোলন হয়েছে।
উল্লেখ্য, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর করা হয়। তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পর এবার শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও শিল্পের সামর্থ্য বিবেচনায় নতুন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে নতুন ন্যূনতম মজুরির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের লিখিত প্রস্তাব এবং বোর্ডের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা হবে।
