শীতকালে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

৪ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

চলতি শীত মৌসুমে দেশের ওপর দিয়ে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের কোথাও কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে এবারের শীত মৌসুম স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। জানুয়ারি মাসে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যাতে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।

কেন উষ্ণ থাকতে পারে শীতকাল

আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে এবারের শীত মৌসুম তুলনামূলক উষ্ণ থাকতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে শৈত্যপ্রবাহ হবে না। মাঝে মাঝে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে এবারের শীত মৌসুমে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা, স্থায়িত্ব ও বিস্তৃতি তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে শৈত্যপ্রবাহের সময় ও স্থায়িত্ব নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে এলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঘন কুয়াশা ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা

শীতের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। বিশেষ করে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদীর অববাহিকাসহ বিভিন্ন স্থানে কুয়াশার প্রকোপ বাড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

এদিকে আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অক্টোবর ও নভেম্বর সাধারণত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল সময়।

বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। নভেম্বর মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার এবং বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ থাকতে পারে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও কমতে পারে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার উপাত্ত, জলবায়ু মডেল এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকায় নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।