ইরানকে ধ্বংসের নতুন হুমকি ট্রাম্পের, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তেহরানের নিরাপত্তাপ্রধান
ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় রয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, যাতে দেশটি ভবিষ্যতে আর কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে তাঁকে সেই সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই জানা যাবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পুনর্গঠনে প্রায় ২৫ বছর সময় লাগতে পারে।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান
এদিকে একই দিনে মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তাও রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দেন।
বৈঠক শেষে রেজায়ি জানান, দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের গ্যাসসংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে দেশটিতে গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইরানের নিজস্ব জ্বালানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রেজায়ি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন প্রস্তাব ইরানের
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে কাতারের মাধ্যমে একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
ইরানের শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হবে না বলে জানিয়েছেন রেজায়ি।
ট্রাম্প অবশ্য ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া তেহরান কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সংঘাতের পাশাপাশি বাড়ছে আঞ্চলিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, তুরস্ক ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
এদিকে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক, কূটনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিও সে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে চুক্তিটিতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকি, মস্কো-তেহরান বৈঠক এবং কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রস্তাব—সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নতুন এক কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
