মদিনামুখী ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর দাবি সৌদি জোটের, নিন্দা ৪ দেশের

৪ মিনিটে পড়ুন২ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান। তবে মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথি গোষ্ঠী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। একই সময়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলে একটি হুথি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানায় জোটটি।

চার দেশের নিন্দা ও সংহতি

ঘটনার পর কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান পৃথক বিবৃতিতে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ঘটনার নিন্দা জানায়।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে মুসলমানদের অনুভূতিতে সরাসরি উসকানি এবং বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি বেপরোয়া অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দোহা।

কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করা শুধু বেসামরিক মানুষ ও মসজিদে নববীর দর্শনার্থীদের জন্য হুমকি নয়, বরং এটি ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার ওপরও আঘাত। এ ধরনের হামলা বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

অন্যদিকে জর্ডান বলেছে, মদিনা অঞ্চলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা মুসলমানদের অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার হুথিদের

সৌদি জোটের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবির পর হুথি গোষ্ঠী তা প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান কেবল সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র নগরীকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে।

ইয়েমেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সময় হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা ও দেশের বেশ কিছু এলাকা দখলে নেয়। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মদিনা অঞ্চলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ সামনে এল।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও তা প্রতিহত করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বক্তব্যই প্রধান তথ্যসূত্র। অন্যদিকে হুথিরা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।