অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের আন্দোলন, নীলক্ষেতে সড়ক অবরোধ

৪ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে নীলক্ষেতে কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে দুপুরের দিকে সড়ক ছেড়ে কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কথিত হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

যেভাবে শুরু হয় আন্দোলন

কলেজের অডিটোরিয়ামে নির্ধারিত সময়ের পরও অনুষ্ঠান চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য অডিটোরিয়াম ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি রাত ১২টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে।

এ ঘটনায় অনুষ্ঠান আয়োজনের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চেয়ে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে এক রাতের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

অন্যদিকে অধ্যক্ষের বক্তব্য, অনুষ্ঠান রাত ১২টা পর্যন্ত করার অনুমতি দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ভোর ৫টা পর্যন্ত চালিয়ে যান। নিয়ম ভঙ্গের কারণে তিনি দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিল করেন এবং অডিটোরিয়ামে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল পরিশোধের নোটিশ দেন।

অধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা

গত বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা কার্যালয়ের দরজায় তালা লাগিয়ে অধ্যক্ষকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং নারী শিক্ষার্থীদের মারধর করে। কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিল হোসেনের দাবি, দায়িত্বে থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের আঁচড়ে আহত হয়েছেন। অধ্যক্ষকে উদ্ধার করার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অধ্যক্ষকে একটি কক্ষে প্রায় ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল এবং এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অধ্যক্ষের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং পুলিশি হামলার ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।