শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ২০৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

৩ মিনিটে পড়ুন১ বার পড়া হয়েছে

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশের সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় কয়েকটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মীদের নাম রয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব জব্দের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তালিকায় সাবেক মন্ত্রী ও শিল্পগোষ্ঠীর মালিক

ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি, বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তাজুল ইসলাম এবং তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থার পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাই শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত—এমন কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।