কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫

৪ মিনিটে পড়ুন০ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় চলা সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১৫ থেকে ২০ জনের কথা বলা হয়েছে।

শনিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কসবা পৌর শহরের বিজনা সেতু ও কদমতলী এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা, রামদা ও ছুরি নিয়ে মুখোমুখি হন। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে হেলমেট পরা এক ব্যক্তির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও বিএনপির একাধিক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী এবং জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষই পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বিরোধের সূত্রপাত হিসেবে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে। গত ১ নভেম্বর কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর জেরে গত বুধবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারীরা কসবার আড়াইবাড়ি দরবার শরিফ এলাকা থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হকের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি কদমতলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ চলার সময় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা এলাকায় এলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষে মোহনা টেলিভিশনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধি হারুনুর রশিদ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উভয় পক্ষের ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। আহতদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করেছে। সংসদ সদস্যের অনুসারী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াসের দাবি, ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় প্রতিপক্ষের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক অভিযোগ করেছেন, শোভাযাত্রার পর সমাবেশ চলাকালে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং বোমা ও গুলি ছোড়া হয়েছে। এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানিয়েছেন, দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেননি। কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলামও জানিয়েছেন, দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।