এইচএসসির ১০ লাখের বেশি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন, সময় বাড়ল

৩ মিনিটে পড়ুন১ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদন করেছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী। শেষ সময়ে অনলাইন ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে আবেদনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইন ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে আবেদন কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগে ঘোষিত ৭ নভেম্বর রাত ১২টার সময়সীমা পরিবর্তন করে ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় ও পত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উত্তরপত্রের আবেদনসংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় এবার আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ জন শিক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে মোট আবেদন জমা পড়েছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি। সে হিসাবে চলতি বছর আগের দুই বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত ২২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন হওয়ায় ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

শিক্ষা বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করা হতে পারে। আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, পরীক্ষক নিয়োগ, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং পরিবর্তিত নম্বর যাচাইয়ের ধাপ শেষে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।