বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ সাদপন্থীদের ৪ দাবি

৪ মিনিটে পড়ুন২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা, তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ঘিরে অপপ্রচার ও উসকানি বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং কাকরাইল মসজিদ ও ইজতেমা ময়দানের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব দাবি তুলে ধরেন।

‘তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও সুশীল সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া। এতে তাবলিগ জামাতের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন এবং বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা অবসানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দ্রুত ইজতেমার তারিখ ঘোষণার দাবি

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের অংশগ্রহণে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের তারিখ দ্রুত ঘোষণার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, বিতর্ক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

তাঁদের মতে, এ বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব ইজতেমার আন্তর্জাতিক আবেদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ধর্মীয় এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিরোধের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

অপপ্রচার ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান

মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে ঘিরে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, মসজিদের মিম্বর এবং অন্যান্য পরিসরে বিতর্কিত বক্তব্য, অভিযোগ ও অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা। তাঁরা এসব বক্তব্য বন্ধের পাশাপাশি তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একতরফা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও উসকানি বন্ধের আহ্বান জানান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তাবলিগ জামাতের বিরোধ নিরসনে সংশ্লিষ্ট আলেমদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিত। কোনো পক্ষের হয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া কিংবা সরকারের ওপর একতরফা চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা প্রয়োজন।

বক্তারা সরকার, রাজনৈতিক দল, আলেম-উলামা, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাদপন্থীরা। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মারকাযুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মুফতি শফিউল্লাহ মাক্কী অভিযোগ করেন, সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের ক্ষেত্রে জুবায়েরপন্থীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। এবারও বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, তৃতীয় একটি পক্ষ যুক্ত হয়ে বিরোধটিকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে।

তৃতীয় পক্ষ কারা—এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা রেজাউল করিম হেফাজতে ইসলামের একটি অংশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়নি।

কাকরাইল মসজিদ ও ইজতেমা ময়দানের ন্যায্য বণ্টন

সাদপন্থীদের চতুর্থ দাবি হলো রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা। তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও ইজতেমায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা তাবলিগ জামাতের বিরোধ নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দায়িত্বশীল আলোচনা এবং প্রয়োজনে সরকারের মধ্যস্থতায় সংলাপ আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, বিভিন্ন মাদ্রাসার আলেম এবং তাবলিগ জামাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।