আগামী ১ জানুয়ারি শুরু ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, প্রস্তুতি শুরু
আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) ২০২৭। মাসব্যাপী এ আয়োজন চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠেয় মেলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করেছে আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এ উপলক্ষে অবকাঠামো নির্মাণ, নিরাপত্তা, সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রচারসহ ছয়টি খাতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
মেলা আয়োজনের বিভিন্ন কাজের জন্য গত ২৯ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করে ইপিবি। ছয়টি পৃথক খাতে ভাগ করা এসব কাজের মধ্যে রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রদর্শনী হল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণ, মেলার সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং প্রচার-প্রচারণা। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে গত মঙ্গলবার থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা। পরদিন ১৮ নভেম্বর সকাল ১১টায় দরদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে।
মেলার অবকাঠামো নির্মাণের আওতায় প্রদর্শনী হলের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন স্টল, প্যাভিলিয়ন, খাবারের দোকান, বুথ এবং অস্থায়ী নামাজের স্থান তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামে একটি গ্যালারি বা প্যাভিলিয়ন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের বসার জায়গা, কফি কর্নার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও তৈরি করা হবে।
মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশপথে ধাতব বস্তু শনাক্তকরণ যন্ত্র এবং যানবাহন তল্লাশির সরঞ্জাম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও লিংকডইনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে মেলার প্রচার চালানো হবে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানিয়েছেন, এবারের মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দূতাবাসগুলোর সঙ্গে অনলাইন বৈঠক এবং চিঠি আদান-প্রদানও হয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এবার ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
তবে মেলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক গুরুত্ব নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের মতে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকায় মেলাটি অনেকটা স্থানীয় কেনাকাটার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানও মেলা থেকে প্রত্যাশিত রপ্তানি আদেশ পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২০২২ সাল থেকে মেলাটি পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হয়। ২০২৫ সালে মেলার নাম থেকে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে বাণিজ্য মেলা পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটি তা বাতিল করে। ফলে আগের নামেই আয়োজন অব্যাহত রয়েছে।
