ইরান যুদ্ধ নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য ডেমোক্র্যাট ও ইউক্রেনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে ইরান যুদ্ধের প্রভাব অস্বীকার করে ডেমোক্র্যাট দল এবং ইউক্রেনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৪ মিনিটে পড়ুন৪ বার পড়া হয়েছে

সোমবার নিজ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, “গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ এখন আর হরমুজ প্রণালী নয়, কারণ সেখান থেকে এখন প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ হচ্ছে। আসল সমস্যা হলো রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলোতে—যেখানে ইউক্রেন রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ধ্বংস করছে এবং অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্র্যাটশাসিত স্টেটগুলোতে আমাদের নিজস্ব শোধনাগারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।”

প্রকৃত চিত্র ও হরমুজ প্রণালীর তথ্য

ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ শোধনাগার বন্ধ হওয়াকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালীটি দিয়ে দৈনিক জ্বালানি রপ্তানি প্রায় ৯৭ শতাংশ কমে গেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্য এবং এর পেছনে ট্রাম্পের দাবি বনাম বাস্তব চিত্র

বিষয়ট্রাম্পের দাবি / তথ্যপ্রকৃত পর্যবেক্ষণ / বিশেষজ্ঞ মতামত
হরমুজ প্রণালী সরবরাহপ্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ তেল বাইরে আসছে।যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রপ্তানি ৯৭% হ্রাস পেয়েছে।
গ্যালন প্রতি পেট্রোলের দাম (AAA)ডেমোক্র্যাটদের নীতি ও রিফাইনারি বন্ধের ফল।বর্তমানে $৪.৩৬ (১ মাস আগে $৪.১৪ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল $২.৯৮)।
রুশ শোধনাগার ও ইউক্রেনীয় হামলাইউক্রেনের হামলায় বৈশ্বিক শোধনাগার সংকট।ইউক্রেন অর্ধেকের বেশি রুশ শোধনাগার অচল করার দাবি করেছে; ডিজেল উৎপাদন ৩০% কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রিফাইনারিডেমোক্র্যাটদের কারণে ক্যালিফোর্নিয়াতে সংকট।গত এক বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ২টি শোধনাগার বন্ধ হওয়ায় ১৭% ক্ষমতা কমেছে, যা আংশিক সংকট তৈরি করেছে।

বৈশ্বিক চাপ ও কৌশলগত রিজার্ভের ব্যবহার

সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো র‍‍্যাচেল জিমবা আল জাজিরাকে জানান, “ইরান সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একে অপরকে প্রভাবিত করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়াটাই মূল সমস্যা।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে হোয়াইট হাউসের চাপে জি-৭ (G7) ভুক্ত দেশগুলো তাদের জরুরি তহবিল থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। গাসবাডি (GasBuddy)-র পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ প্রধান প্যাট্রিক ডিহান জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তাদের কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহারের জন্য চাপ দেয়, অন্যথায় ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়। এর ফলে ফ্রান্স ও জার্মানি রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়তে বাধ্য হয় এবং সাময়িকভাবে বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (SPR) ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও জনমত

সামনে মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচন, যা নির্ধারণ করবে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য। এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় শোধনাগার বন্ধের কারণে সরবরাহ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাই প্রধানত দায়ী।

সম্প্রতি প্রকাশিত এপি-এনওআরসি (AP-NORC) জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক মনে করেন ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির কারণেই দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং ৬১ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর মার্কিন অর্থনীতি আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় পড়েছে।

Bhinno Britto