সরাইলে গরুর ঘাস কাটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত অন্তত ১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত উল্লেখ করা হলেও পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে ১৫ থেকে ২০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড্ডাপাড়া এলাকায় সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কের পাশে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। আলমগীর নামের এক ব্যক্তি একটি জমি থেকে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গেলে একই গ্রামের ফারুক ও হুমায়ুনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সকালের ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় গ্রামে সালিশ বৈঠক বসে। তবে বৈঠকে আলোচনার একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান।
রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি প্রতিবেদনে সংঘর্ষ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলার কথা বলা হয়েছে। আবার স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত অন্য একটি প্রতিবেদনে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারসহ দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে চেয়ারম্যান ছাড়া অন্য আহত ব্যক্তিদের সবার পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একটি প্রতিবেদনে সরাইল-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরির কথাও বলা হয়েছে। তবে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে কত সময় লেগেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে সরাইল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বিরোধ থেকে সৃষ্ট এ সংঘর্ষের ঘটনায় আহতের প্রকৃত সংখ্যা ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
