সাজেকে অবরোধ-সংঘর্ষের মধ্যে আটকে পড়া ২,৩৫০ পর্যটককে, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলো খাগড়াছড়িতে

৩ মিনিটে পড়ুন৫ বার পড়া হয়েছে

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে আটকে পড়া দুই হাজার তিন শতাধিক পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ির দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উত্তেজনা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবিনিময়ের খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য ও পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে গোলাগুলির ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাজেক ভ্যালি থেকে ফিরতে থাকা পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজো বাজার এলাকায় আটকে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এতে প্রায় ২ হাজার ৩৫০ পর্যটক আটকা পড়েন।

পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধকারীদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পর্যটকবাহী গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুর রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য ও পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁর দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সময় ইউপিডিএফ সদস্যরা গুলি চালালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে পর্যটক আহত হওয়ার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা অমিল রয়েছে। পুলিশ সুপার কোনো পর্যটক আহত হননি বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছিলেন।

ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা গুলিবিনিময়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ অবরোধ ভাঙতে গুলি চালিয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও হামলা চালানো হয়েছে। সংগঠনটি সাজেকের বাসিন্দাদের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

অবরোধের পেছনে কী?

সাজেক জনঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এ অবরোধের ডাক দেয়। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অন্যতম দাবি হলো সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা পক্ষ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া। আন্দোলনকারীরা এ দাবিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছেন।

পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযোগ এবং ইউপিডিএফের পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় সড়কে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এখন তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার।

সাজেক দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে সড়ক অবরোধ ও সশস্ত্র সংঘাতের অভিযোগ পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্থানীয় মানুষের চলাচল এবং পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।