ডেঙ্গুর ভয়াবহতা অব্যাহত, আরও ৭ মৃত্যু; এক দিনে হাসপাতালে ১,৩৭৩ রোগী

৩ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর চাপ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২১ অক্টোবরের দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, ওইদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৪-এ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই ২৪ ঘণ্টায় সাতটি মৃত্যুই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় নথিভুক্ত হয়েছে। নতুন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৬ জন। অন্যদিকে, দেশজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৫ হাজার ৯৭০ জন ডেঙ্গু রোগী।

কোন এলাকায় রোগীর চাপ বেশি?

সর্বশেষ দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ৬০২ জন রয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৭, খুলনা বিভাগে ১৫৫ এবং রাজশাহী বিভাগে ১১১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫, রংপুর বিভাগে ২৮ এবং সিলেট বিভাগে ১০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ডেঙ্গুর চাপ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন বিভাগেও রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ঘটছে।

একই সময়ে ১ হাজার ৩৪০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা এবং চলমান চিকিৎসাধীন রোগীর চাপ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী জরুরি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য পানির পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, রক্তপাত বা শ্বাসকষ্টের মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় রোগীর চাপ বেশি, সেখানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৬৪-এ পৌঁছেছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এই পরিস্থিতি রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।