হিমছড়িতে প্রবল স্রোতে প্রাণহানি বেড়ে ৪, এখনো নিখোঁজ এক পর্যটক
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে সাগরের প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহটি উদ্ধারের পর এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের তল্লাশি চলছে।
নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হারুন। তাঁর বয়স ২০ বছর। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সকালে হিমছড়ি সৈকতের সাগর নিবাস এলাকার কাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে বুধবার, ২১ অক্টোবর বিকেলে হিমছড়ি জাদুঘর ও মারিনা রিসোর্ট-সংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে গিয়ে কয়েকজন পর্যটক প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কবলে পড়েন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন স্রোতে ভেসে যান। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং প্রথম দিনেই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটক এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের বয়স ২২ বছর। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ঢাকার উত্তরা-আজিমপুর এলাকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের দুটি দল হিমছড়ি জাদুঘরের কাছাকাছি এলাকায় গিয়েছিল। সাগর ও খালের মোহনায় জেগে ওঠা একটি বালুচরে যাওয়ার পর বিকেলে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বালুচরটি পানিতে ডুবে গেলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বিপদে পড়েন।
এ সময় শক্তিশালী স্রোত ও ঢেউ তাঁদের গভীর পানির দিকে টেনে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবারও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি, লাইফগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
কক্সবাজার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। তবে সাগরের স্রোত, জোয়ার এবং হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক সময় পর্যটকেরা বুঝতে পারেন না। বিশেষত, জোয়ারে ডুবে যেতে পারে এমন বালুচর বা খালের মোহনায় গেলে দ্রুত বিপদ তৈরি হতে পারে।
সৈকতে গোসলের আগে স্থানীয় প্রশাসন ও লাইফগার্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করা, বিপজ্জনক স্থানে না যাওয়া এবং স্রোতের সতর্কসংকেত মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সাগরের পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত।
এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যু এবং একজনের নিখোঁজ থাকার খবর পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা, সময়মতো সতর্কতা এবং উদ্ধারসেবার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
