নতুন রাজনৈতিক দল নয়, ‘সমমনা ইসলামী দল’ ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে কওমি ঘরানার সাত দল

৪ মিনিটে পড়ুন৫ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াতে অভিন্ন ব্যানারে একসঙ্গে কাজ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী রাজনৈতিক দল। নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের পরিবর্তে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে একমত হয়েছেন দলগুলোর নেতারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বৈঠকটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। এতে রাজনৈতিক ঐক্য, অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। তবে দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং অভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন প্ল্যাটফর্মটির সাংগঠনিক কাঠামো, নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

কোন সাতটি দল রয়েছে এই উদ্যোগে?

অভিন্ন প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে যুক্ত সাতটি দল হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীসহ বিভিন্ন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টির প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।

দলগুলোর নেতারা নিজেদের পৃথক সাংগঠনিক পরিচয় বজায় রেখে অভিন্ন ব্যানারে কাজ করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে যৌথ কর্মসূচি, রাজনৈতিক দাবিদাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সমন্বিত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক জোটের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত?

বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বর্তমানে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোকেও ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে বিদ্যমান রাজনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনই কোনো দলের জোটত্যাগ বা নতুন রাজনৈতিক জোটের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

দলগুলোর পরবর্তী বৈঠক আগামী ৫ ডিসেম্বর আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে সাংগঠনিক নীতিমালা, পারস্পরিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে, অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে দলগুলোর পারস্পরিক আস্থা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং পৃথক রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সমন্বয় করার সক্ষমতার ওপর।

একটি অভিন্ন ব্যানারের অধীনে কাজ করার নীতিগত সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এর সাংগঠনিক শক্তি, নির্বাচনী ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ধারিত হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও বাস্তব কার্যক্রমের মাধ্যমে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।