সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় পৃথক হামলা, নিহত ৪; নিরাপত্তা উদ্বেগে আরামকো সদর দপ্তর খালি
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পৃথক হামলার ঘটনায় চারজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবারের এসব ঘটনায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে বৃহস্পতিবার সৌদি আরামকো তাদের ধাহরানের সদর দপ্তরের কর্মীদের সেখান থেকে সরে গিয়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুইজন নিহত এবং আটজন আহত হন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য জানায়।
একই দিনে শায়বা তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি প্রতিহত করলেও এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তেলক্ষেত্রের বাইরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন লাগে। তবে স্থাপনাটির কার্যক্রম বা তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়নি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
দুটি ঘটনার তথ্য একত্রে হিসাব করলে নিহতের সংখ্যা চার এবং আহতের সংখ্যা ১০।
আরামকোর সদর দপ্তর খালি করার নির্দেশ
হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ধাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং বাসা থেকে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছয়জন ব্যক্তি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-সম্পর্কিত চলমান আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম আরামকোর সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নির্দেশের নির্দিষ্ট কারণ কোম্পানির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
ধাহরানে অবস্থিত এই স্থাপনাটি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকেন্দ্র। এখান থেকে তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, রপ্তানি টার্মিনাল এবং বিস্তৃত পাইপলাইন ব্যবস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করা হয়। ফলে এ ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ শুধু কর্মীদের সুরক্ষার বিষয় নয়; আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ।
আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপট
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা ও প্রতিহত করার খবর এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বুধবার সৌদি আরবের দিকে ছোড়া সাতটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলে আরও চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার তথ্য জানিয়েছে জোটটি। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশটির আকাশসীমা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তবে বুধবার বিমানবন্দর ও শায়বা তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনায় কারা সরাসরি দায়ী, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য বক্তব্যে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে দুটি হামলার সরাসরি দায়ী হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব
সৌদি আরব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি। দেশটির জ্বালানি স্থাপনা এবং পরিবহন অবকাঠামোর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের হামলা বা হামলার আশঙ্কা দীর্ঘায়িত হলে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
তবে শায়বা তেলক্ষেত্রের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে এ ঘটনায় তেল উৎপাদন বা সরবরাহে তাৎক্ষণিক ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে অতিরিক্ত অনুমান করা ঠিক হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর রাখা এবং সংঘাতের বিস্তার সীমিত করা সৌদি আরব ও তার আঞ্চলিক অংশীদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
