বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশাপাশি ভারতের মুসলিমদের অধিকারেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান পাটওয়ারীর

৩ মিনিটে পড়ুন৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার দাবির পাশাপাশি ভারতে মুসলিমদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়েও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাষ্ট্রীয় সীমানার ভিত্তিতে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া উচিত নয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ আহ্বান জানান তিনি। সেখানে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তির অধিকার এবং ভারতে মুসলিমদের ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এই রাজনীতিক।

অধিকার রক্ষায় দ্বৈত অবস্থানের সমালোচনা

ফেসবুক পোস্টে পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার নিয়ে অনেকেই কথা বলেন। কিন্তু ভারতে মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অনেকে নীরব থাকেন।

তিনি বলেন, অধিকার ও ন্যায়বিচার কখনো ধর্ম, জাতি কিংবা সীমান্তের পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে না। বাংলাদেশের হিন্দুদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে যেমন সোচ্চার থাকা প্রয়োজন, তেমনি ভারতের মুসলিমদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়েও কথা বলা জরুরি।

তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে সর্বজনীন নীতি অনুসরণ করা। কোনো সম্প্রদায়ের অধিকার লঙ্ঘিত হলে তার প্রতিবাদ করতে হবে, সেই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রক্ষার আহ্বান

নিজের বক্তব্যে মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, কারও সম্পত্তি দখল কিংবা অধিকার হরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে একই নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

পাটওয়ারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাত কিংবা বৈষম্যের সুযোগ থাকা উচিত নয়। মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়টি রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ না রেখে সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে মানবাধিকারের প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের আলোচনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়গুলো প্রায়ই গুরুত্ব পায়। দুই দেশেই বিভিন্ন সময়ে এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দল, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পাটওয়ারীর বক্তব্যে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় এবং ভারতের মুসলিমদের অধিকার রক্ষার বিষয় দুটি একই আলোচনায় এসেছে। তবে ভারতে মুসলিমদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ব্যাপ্তি ও কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত এবং সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

মানবাধিকার নিয়ে আলোচনায় সর্বজনীন নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী মূলত সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।