সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে অভিভাবকের করণীয়: ব্যবহারিক ও ইসলামিক নির্দেশিকা

৩ মিনিটে পড়ুন৪ বার পড়া হয়েছে

জীবনযাপন ও ইসলাম ডেস্ক:

সন্তানের অন্তরে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বীজ বপন করা প্রতিটি অভিভাবকের পবিত্র দায়িত্ব। তবে শিশুশিক্ষা প্রদান এবং সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে প্রজ্ঞা ও নববি পদ্ধতির অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি। জোরজবরদস্তি কিংবা রুক্ষ পরিবেশে সন্তানকে শিক্ষা দিলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। তাবেয়ি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই এই ইলমই হলো ধর্ম; সুতরাং তোমরা লক্ষ করো, কার কাছ থেকে তোমরা তোমাদের ধর্ম গ্রহণ করছ।” (সহিহ মুসলিম)।

ইসলামী ফিকহ ও সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণার আলোকে সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জন্য একটি প্রায়োগিক নির্দেশিকা তুলে ধরা হলো:

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে যা খেয়াল রাখবেন:
১. আনন্দদায়ক ও মমতাময় পরিবেশ: পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পড়ালেখার চেয়ে বিনোদন ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখাটা মুখ্য। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমরা সহজ করো, কঠিন কোরো না; সুসংবাদ দাও, দূরে সরিয়ে দিয়ো না।” (সহিহ বুখারি)।

২. শিক্ষকের প্রজ্ঞা ও আদব: প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক জৌলুশ না দেখে শিক্ষকের চরিত্র ও যোগ্যতা দেখা উচিত। হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘রদ্দুল মুহতার’-এ বলা হয়েছে, শিক্ষকের সুন্দর চরিত্র শিশুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তোতাপাখির মতো মুখস্থ করানোর চেয়ে আদব ও আচরণ গঠনে গুরুত্ব দেওয়া প্রতিষ্ঠানই আদর্শ।

৩. অনাবাসিক ও যাতায়াত সুবিধা: ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে মানসিক বিকাশ ও পরিবারের প্রতি আকুলতার কথা বিবেচনা করে অনাবাসিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো উত্তম। পাশাপাশি দীর্ঘ যাতায়াতের ক্লান্তি যেন শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

যেসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাবেন না:

১. ভীতি সৃষ্টি ও অতিরিক্ত চাপ: যে প্রতিষ্ঠানে কঠোরতার কারণে শিশু প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে আতঙ্কিত থাকে বা ক্লাস ফাঁকি দেয়, সেখানে জোর করে পাঠানো উচিত নয়। সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন তাঁর ‘আল-মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থে লিখেছেন, অতিরিক্ত জবরদস্তি শিশুর সৃজনশীলতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা নষ্ট করে এবং শাস্তির ভয়ে শিশু মিথ্যা বলতে শেখে।

২. ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত সিলেবাস: ফতোয়া-ই-হিন্দিয়ায় বলা হয়েছে, শিশুদের ওপর এমন কোনো শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ করা যাবে না, যা তাদের ধারণক্ষমতার বাইরে। অতিরিক্ত চাপ শিশুকে ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে।

সন্তানকে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সে মানসিকভাবে স্বস্তিতে আছে কি না, নিয়মিত তার খোঁজ রাখা আবশ্যক। রুক্ষ পরিবেশ শিশুমনকে ধর্মবিমুখ করে তুলতে পারে; তাই মমতাময় ও সুন্দর পরিবেশে শিশুর ইসলামী শিক্ষার ভিত গড়ে দেওয়াই অভিভাবকের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।