খাগড়াছড়িতে অবরোধের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ মহড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য
খাগড়াছড়ি ও পাহাড় ডেস্ক:
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের ডাকা অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি মোটরসাইকেলে করে এক পাহাড়ি তরুণকে বন্দুক হাতে নিয়ে সড়কে ঘুরে বেড়ানোর ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান স্থানটি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের গুইমারা জোড়া ব্রিজ এলাকা। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কে কাঠ-বাঁশে আগুন দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং সড়কের পাশে একদল তরুণ অবস্থান করছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন পাহাড়ি তরুণকে যেতে দেখা যায়, যার মধ্যে একটি মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা কালো টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরিহিত তরুণের হাতে একটি খোলা বন্দুক ছিল।
রাঙামাটির সাজেকে পূর্ববর্তী সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আজ শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে এই অর্ধদিবস অবরোধ ডেকেছিল ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’। তবে অস্ত্রসহ মহড়ার অভিযোগ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা দাবি করেছেন, “ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ অস্ত্র নিয়ে আন্দোলন করে না। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে আমাদের কর্মসূচির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
এদিকে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান জানান, অবরোধের সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা দ্রুত সরিয়ে নেয়। ছড়ানো ভিডিওটির বিষয়ে তিনি বলেন, “যে সংগঠনটি অবরোধ ডেকেছে তাদের পেছনে ইউপিডিএফ জড়িত থাকতে পারে। তবে আতঙ্ক ছড়াতে অনেক সময় পুরোনো ভিডিও ছড়ানো হয়। ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রসঙ্গত, সাজেক এলাকায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র সংঘাতের জের ধরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় বর্তমানে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটক গমনাগমন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে জেলা প্রশাসন।
