দেশে হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, এক দিনে আক্রান্ত ১ হাজার ৬৫

৪ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৪ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫১ জন। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণ মিলিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫ জন। অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যু ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ জনে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

উপসর্গে মৃত্যু ১ হাজার ১১৮, নিশ্চিত হামে ১০৪

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮ জনে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০৪ জন।

অর্থাৎ, উপসর্গযুক্ত রোগীদের মৃত্যু এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর হিসাব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২২২। তবে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সব রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে, এমন নয়। তাই উপসর্গজনিত মৃত্যু ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর পরিসংখ্যান আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

সংক্রমণের পরিসংখ্যানে উদ্বেগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৪ জন। ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জনে।

অন্যদিকে, গত এক দিনে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ জন। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩২৪ জনে।

এখানে উপসর্গযুক্ত রোগী ও পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর হিসাব পৃথক। উপসর্গ দেখা দেওয়া মানেই পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া নয়। আবার সব উপসর্গযুক্ত রোগীর পরীক্ষা না হওয়ায় প্রকৃত সংক্রমণের মোট সংখ্যা নির্ধারণেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই লাখ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন।

বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং নিয়মিত মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে হাম সন্দেহে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

টিকাদান ও সচেতনতার গুরুত্ব

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মাধ্যমে রোগটি প্রকাশ পেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অপুষ্টি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা এবং প্রয়োজনীয় টিকা না নেওয়া গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে নিয়ম অনুযায়ী টিকা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর টিকাদানের তথ্য যাচাই করা, নির্ধারিত টিকা বাদ পড়লে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নিজে থেকে ওষুধ প্রয়োগ না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে সাময়িকভাবে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

দেশে হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যু ও নতুন রোগী শনাক্তের ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান, রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবার কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলো থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রবণতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।