বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ, বাংলাদেশিদের গুলি করার হুমকি বিজেপি বিধায়কের

৫ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তসংলগ্ন সানিয়াজান নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে স্থানীয় শ্রমিকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই ঘটনায় বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি করার হুমকি দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তের প্রধান ৮৩৭ নম্বর পিলারের ৪ নম্বর উপ-পিলারের কাছে সানিয়াজান নদীতে কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক বালু ও পাথর উত্তোলন করছিলেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশের অভিযোগ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ী ক্যাম্পের ১০ থেকে ১২ জন সদস্যের একটি টহল দল শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রায় ১৫০ গজ প্রবেশ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিএসএফ সদস্যরা নদীতে নেমে বালু ও পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় শ্রমিকদের চিৎকার শুনে স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন বাসিন্দা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএসএফ সদস্যরা একটি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যান বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটিতে কেউ আহত বা নিহত হননি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সীমান্তের কাছাকাছি নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনের মতো কাজকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

বিজিবির প্রতিবাদ, বিএসএফের অস্বীকার

ঘটনার বিষয়ে রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক কারিমুল ইসলাম জানান, বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনায় বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফের কাছে প্রতিবাদপত্রও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ফলে ঘটনাটির বিবরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগ তোলা হলেও বিএসএফ তা অস্বীকার করেছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশিদের গুলি করার হুমকি বিজেপি বিধায়কের

সীমান্তের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তাকে গুলি করে দেওয়া হবে। তিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ এবং জিরো পয়েন্টে নিরাপত্তা আরও কঠোর করার কথাও বলেছেন।

বিধায়কের এ বক্তব্য সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সীমান্তে ঘটে যাওয়া নির্দিষ্ট ঘটনার দায় ও সত্যতা পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সীমান্তে কোনো অপরাধ বা অনুপ্রবেশের অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম অনুযায়ী মোকাবিলা করার বিষয়।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। সানিয়াজান নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা যেন আরও সংঘাতে রূপ না নেয়, সে জন্য দায়িত্বশীল যোগাযোগ ও নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ঘটনার পর বিজিবির প্রতিবাদ এবং দুই বাহিনীর পতাকা বৈঠক সীমান্তে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অভিযোগের বিষয়ে পারস্পরিক বক্তব্য যাচাই, সীমান্তের অবস্থান নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।