ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গরুবাহী পিকআপে ডাকাতির চেষ্টা, ৯ গরুসহ ৩৪ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

৪ মিনিটে পড়ুন৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গরুবাহী একটি পিকআপে ডাকাতির চেষ্টার সময় মো. মিজান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় পিকআপে থাকা নয়টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার মিজানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ার খুদিরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় মহাসড়ক দিয়ে একটি গরুবাহী পিকআপ ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পিকআপটিতে নয়টি গরু ছিল এবং এর সঙ্গে চারজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন।

যেভাবে ডাকাতির চেষ্টা

হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল ঢাকা অভিমুখে চলাচলরত নীল রঙের গরুবাহী পিকআপটির গতিরোধ করে। এরপর মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসা ব্যক্তিরা পিকআপে থাকা লোকজনকে নামানোর চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে পিকআপে থাকা চারজনের মধ্যে তিনজনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাকি ব্যক্তিকেও নামানোর জন্য ধস্তাধস্তি চলছিল। এ সময় মহাসড়কে দায়িত্ব পালনরত হাইওয়ে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইক্রোবাসে থাকা ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। অন্যরা মাইক্রোবাস নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে নয়টি গরুসহ পিকআপটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পুলিশের তাৎক্ষণিক উপস্থিতির কারণে পিকআপের গরুগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৪ মামলার তথ্য

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মুনতাসীরুল ইসলাম ঘটনাটির তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মিজানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ৩৪টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব মামলার তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকা এবং আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। মামলাগুলোর বর্তমান বিচারিক অবস্থা, কোন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে কিংবা কোনো মামলায় দণ্ড হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ ক্ষেত্রে পুলিশের দেওয়া তথ্যকে অভিযোগ ও মামলা-সংক্রান্ত তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। একই সঙ্গে পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের পরিচয় এবং ডাকাতির চেষ্টার পেছনে আরও কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

মহাসড়কে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগপথগুলোর একটি। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। গরুবাহী পিকআপের মতো যানবাহনে মূল্যবান পশু পরিবহন করা হয় বলে এ ধরনের যান ডাকাতির শিকার হলে চালক ও সহযাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়।

করটিয়ার খুদিরামপুর এলাকায় রাতের বেলায় সংঘটিত এ ঘটনায় একটি দল মাইক্রোবাস ব্যবহার করে পিকআপের গতিরোধ করেছিল বলে পুলিশের বিবরণে উঠে এসেছে। পিকআপে থাকা ব্যক্তিদের নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলার সময় পুলিশের টহল দল পৌঁছে যাওয়ায় ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নেয়।

এ ধরনের ঘটনার তদন্তে পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, ব্যবহৃত গাড়ির তথ্য যাচাই এবং উদ্ধার করা পশু ও পিকআপের মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি এবং আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলাটির বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।