টঙ্গীতে সাত বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

৫ মিনিটে পড়ুন৪ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসার এক শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী।

অভিযুক্ত শিক্ষক টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগের শিকার শিশুটি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসায় অবস্থানকালে শিক্ষক তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

পরিবারের অভিযোগ ও মামলা

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটির সঙ্গে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে মা-বাবার কাছে ঘটনা খুলে বলে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি জানার পর শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। বুধবার (২১ অক্টোবর) এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ওই মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজ ও আলামত সংগ্রহ

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পুলিশ সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা পরিদর্শন করে। এ সময় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এবং ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

রোববার অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন আদালতে উত্থাপন করা হলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করা হয়। ফলে মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে থাকতে হবে বলে আদালতের আদেশে জানানো হয়েছে।

জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়া মানেই মামলার চূড়ান্ত রায় হয়ে যাওয়া নয়। অভিযোগের বিচার, সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়ন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধের দায় নির্ধারণ করা হবে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ

ঘটনাটি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পৃথক অভিযোগ তোলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর করা হয়েছে এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন লুট করা হয়েছে। এসব অভিযোগে শিশুটির বাবা এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের দুটি দিকই তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। শিশুটির প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত অভিযোগগুলোরও আইন অনুযায়ী তদন্ত হওয়া জরুরি। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেই দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা বিচারবহির্ভূতভাবে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায় সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।