সীমান্তপারের অর্থে অস্থিরতা হলে সরকারে থাকার যুক্তি কী, প্রশ্ন শফিকুর রহমানের

৫ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ এসে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে সরকার তা ঠেকাতে পারছে না কেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সীমান্তপারের অর্থায়ন, অস্ত্র ও মাদকের প্রবেশ ঠেকানো সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে সতর্ক করে তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি রাজনৈতিক সংস্কার, গণভোটের ফল, সংবিধান সংশোধন এবং সীমান্তপারের অর্থায়ন নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আপত্তি

শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য আবার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি আবার অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার কার্যকর করার পক্ষে মত দেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে এবং সেই রায় বাস্তবায়নে সরকার বাধ্য।

সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলকে এমন একটি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে গণভোটের ফল কার্যকর না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, সংস্কারের বিষয়ে জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। প্রস্তাবিত সংস্কারের সাংবিধানিক বৈধতা, বাস্তবায়নপদ্ধতি এবং গণভোটের ফলের আইনগত প্রভাব নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের জবাব

আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও জবাব দেন। গত ২০ অক্টোবর রাজশাহীতে এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর ওই অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান প্রশ্ন করেন, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ আসার বিষয়টি যদি সত্য হয়, তাহলে সরকার তা বন্ধ করতে পারছে না কেন? তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না কেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার যদি এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাঁর বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

তবে সীমান্তপারের অর্থায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন, সেটি এবং তার জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা যে প্রশ্ন তুলেছেন, দুটি বিষয়ই রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ। অর্থের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং কথিত অর্থায়নের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

রাজনৈতিক সংস্কার ও জবাবদিহির প্রশ্ন

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। প্রথমটি হলো জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পদ্ধতি। দ্বিতীয়টি হলো সীমান্তপথে অর্থ, অস্ত্র ও মাদকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সরকারের দায়িত্ব।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত, সংবিধানের বিধান এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় জামায়াতের আমির জানান, তাঁর দল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংস্কারের সাংবিধানিক পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য আরও প্রামাণ্য তথ্য ও আইনগত প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।