সংবিধান সংশোধনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৫ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ন

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করার পর আগামী জাতীয় নির্বাচন এ ব্যবস্থার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা পুনর্বহালের জন্য সাংবিধানিক সংশোধনী প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা

সালাহউদ্দিন আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত আদালতের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আগের বিচারিক অবস্থানের পরিবর্তন এসেছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার পথ তৈরি হয়েছে। তবে ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয়। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্য দেখা গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে নির্বাচন আয়োজনের সময় সরকারের কাঠামো, দায়িত্ব এবং ক্ষমতার সীমা কী হবে, তা নির্ধারণে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কথা বলা হলেও এর বিস্তারিত পরিধি, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং সংশোধনীর চূড়ান্ত কাঠামো সম্পর্কে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংবিধানিক পদক্ষেপের ওপর।

নির্বাচনকালীন ব্যবস্থার কার্যকর কাঠামো

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রশ্নে শুধু সংবিধান সংশোধনই নয়, নির্বাচন আয়োজনের সময় সরকারের দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের সীমা নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের পরিবেশ—এসব বিষয়ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব সংসদীয় ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কীভাবে এগোবে, তা পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ

সংবাদ ব্রিফিংয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একাধিক অনুরোধ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিষয়টি দুই দেশের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে তিনি যে তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে প্রত্যর্পণের সময় বা চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতা ঠেকানোর বার্তা

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করার কথাও বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। সরকার এ ধরনের তৎপরতা বরদাশত করবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা সেখানে মিছিলের চেষ্টা করেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে সংবাদ ব্রিফিং-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা তাঁর বক্তব্যের আরেকটি দিক।

সামনে কী গুরুত্বপূর্ণ

সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা, সংবিধান সংশোধন, প্রত্যর্পণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। তবে আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজনের বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক সংশোধনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ অপরিহার্য।

নির্বাচনকালীন ব্যবস্থার কাঠামো কী হবে, সংশোধনী কীভাবে প্রণীত হবে এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য কীভাবে কার্যকর হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী আইনগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট হবে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।