বিরোধী দলে থাকতেই দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা

৪ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক ও রাজনীতিক তাসনিম জারা। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একজন মৃত ব্যক্তির নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন নিয়ে বাধার অভিযোগ উঠলে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে পরিস্থিতি কী হতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জারা। তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি উঠে আসে।

দাফন ঘিরে কী ঘটেছিল

মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে পিরোজপুরে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান বা গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়। সেখানে শনিবার বিকেলে নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এরপর চিতলিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য আগে খুঁড়ে রাখা কবর ভরাট করে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় দাফনপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

পরে গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পুনরায় খোঁড়া কবরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

তাসনিম জারার প্রশ্ন

নিজের পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর দাফন নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। সে প্রশ্নের নিষ্পত্তি দাফনে বাধা দিয়ে করা উচিত নয়।

জারা আরও প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ই যদি কারও নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন নিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা হাতে গেলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জামায়াতের বক্তব্য

ঘটনাটিকে ঘিরে জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যও সামনে এসেছে। পিরোজপুর পৌর জামায়াতের আমির আবদুর রাজ্জাক শেখ মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া এবং দাফনের বিরোধিতা করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জামায়াতের জেলা পর্যায়ের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক সোহরাব হোসেন জুয়েল দলটির সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, জামায়াত এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না।

জামায়াতের স্থানীয় নেতা আবদুর রাজ্জাকও পরে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাঁদের আপত্তি ছিল রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান নিয়ে; জানাজা বা দাফন নিয়ে নয় বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনাটিতে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে। তবে পুলিশি নিরাপত্তায় মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে পিরোজপুর সদর থানার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।