ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে তেহরানে তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা

৩ মিনিটে পড়ুন৬ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের উত্তেজনা কমানো এবং পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ সফরের তথ্য জানানো হয়। আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠন এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাঘেরি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করবেন।

সফরকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তুরস্কের নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিনও বৈঠকে অংশ নেবেন।

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

আলী বাঘেরি জানান, সফরকারী কর্মকর্তারা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, সফরকারী প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

ক্রিমলি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কূটনৈতিক উদ্যোগ

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে অঞ্চলটির নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্তে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এবং নতুন করে হামলার হুমকির মধ্যে এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে আলোচনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছাড়াও সংঘাত প্রশমনের কূটনৈতিক পথ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।


Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।