তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা, কারাগারে যুবক

৪ মিনিটে পড়ুন৬ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ।

আটক যুবকের নাম কৃপেশ চন্দ্র রায় (৪০)। তিনি তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কৃপেশের দাবি, তাঁর নাম ও পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে এসব পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় উত্তেজনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ‘Kripash Ray’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সোমবার সকালে একদল স্থানীয় বাসিন্দা অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কৃপেশকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন কিশোর-তরুণ পেছন থেকে ঢিল ছোড়েন এবং তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তাঁরা আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অনুরোধ করেন।

আটকের আগেই থানায় জিডি করেছিলেন কৃপেশ

কৃপেশ চন্দ্র রায় দাবি করেছেন, তাঁর নাম ও পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

স্থানীয় এক প্রতিবেশীও দাবি করেছেন, যে অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে, সেটি থেকে তাঁকেসহ অন্যদের বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে এবং পোস্টগুলোর সঙ্গে কৃপেশের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।

সাবেক পুলিশ সদস্য কৃপেশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কৃপেশ আগে সিলেটের লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল বলে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর করা জিডির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তবে ফেসবুক পোস্টের প্রকৃত উৎস এবং অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।