কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যার মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

৪ মিনিটে পড়ুন৫ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় দলটির আরও তিন নেতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হানিফের পাশাপাশি আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বাজেয়াপ্ত হবে সম্পত্তির অর্ধেক

রায়ে চার দণ্ডিতের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রির অর্থ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হবে।

রায় ঘোষণার সময় চার আসামিই পলাতক ছিলেন। এ কারণে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

কুষ্টিয়ায় নিহত হন ছয়জন

মামলার ঘটনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের। সেদিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলিতে ছয়জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম ও সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছিল, আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের নির্দেশনা, উসকানি ও সহায়তার মাধ্যমে চার আসামি এসব হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা এবং ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল আন্দোলন দমনে সহিংসতাকে উৎসাহিত করা, বলপ্রয়োগের পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ভূমিকা রাখা।

২০২৫ সালে শুরু হয় বিচার

২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরদিন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন। একই বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এই রায়ে হানিফের মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।