ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী বিএনপির ফয়সল, পরদিন ফুল নিয়ে গেলেন প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে ফুলের তোড়া নিয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। দুই প্রার্থী কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ করেন এবং এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকায় দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় যান মির্জা ফয়সল আমীন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা ও পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ছিলেন।
সাক্ষাতে দুই প্রার্থী পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানান। মির্জা ফয়সল আমীন দেলাওয়ার হোসেনের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন। পরে তাঁরা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
এ সময় দেলাওয়ার হোসেন বিজয়ী প্রার্থীকে ‘বেস্ট অব লাক’ বলে শুভকামনা জানান। জবাবে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রেখে এলাকার উন্নয়নে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি দেলাওয়ার হোসেনকে এলাকার উন্নয়নকাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান। কোনো কাজে ভুল হলে সরাসরি জানাতেও বলেন। দেলাওয়ার হোসেনও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অভিযোগ
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামী ভোট গ্রহণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করেন।
গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, নির্বাচনে কিছু প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়া দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আগে থেকেই ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট প্রদান এবং পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। ভোট গ্রহণ শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও জানিয়েছিলেন, ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সমাধান করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত মন্তব্য না করে অভিযোগগুলো পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই বিজয়ী ও পরাজিত দুই প্রার্থীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
