তিন ঘণ্টার অভিযানে ৮৫ জন আটক, মদ ও  ইয়াবা  উদ্ধার

৪ মিনিটে পড়ুন৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলার অভিযোগের বিপরীতে উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিবির জব্দ তালিকা অনুযায়ী, বাড়িটি থেকে চারটি মদের বোতল, একটি ইয়াবা বড়ি ও সামান্য পরিমাণ কুশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর ভাটারা থানার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে ডিবি উত্তরা বিভাগের একটি দল। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ২৬ জন নারীসহ ৮৫ জনকে আটক করা হয়। ঘটনার পর বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

অভিযানের পর ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের কথাও বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত জব্দ তালিকায় মাদকের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।

জব্দ তালিকা অনুযায়ী, বাড়িটি থেকে দেশীয় কোম্পানি কেরুর তৈরি ৭৫০ মিলিলিটারের একটি খালি হুইস্কির বোতল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এক লিটারের একটি রয়্যাল স্ট্যাগের বোতলে আনুমানিক ৫০০ মিলিলিটার এবং এক লিটারের স্মিরনফ ভদকার বোতলে প্রায় ২০০ মিলিলিটার মদ ছিল। ভারতীয় একটি কোম্পানির হুইস্কির এক লিটারের আরেকটি বোতলও উদ্ধার করা হয়। এর বাইরে একটি ইয়াবা বড়ি, সামান্য পরিমাণ কুশ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দের কথা উল্লেখ রয়েছে।

উদ্ধারের তালিকা নিয়ে ডিবির কয়েকজন কর্মকর্তাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলার অভিযোগের তুলনায় জব্দ করা মাদকের পরিমাণ খুবই সামান্য।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবীরের ভাষ্য, অভিযানের আগে আটক ব্যক্তিরা মদ ও ইয়াবা সেবন করে ফেলেছিলেন। এ কারণে বাড়িতে অবশিষ্ট যেসব মাদক পাওয়া গেছে, সেগুলোই জব্দ করা হয়েছে।

ডিবি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির ছয়টি কক্ষের মধ্যে পাঁচটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া হতো। ২০২৫ সাল থেকে সেখানে নিয়মিত পার্টির আয়োজন করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। এক দিনের জন্য বাড়িটি ভাড়া নিতে খরচ হতো ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে দিতে হতো অতিরিক্ত ৬০০ টাকা। সেখানে মাসে ২০ থেকে ২২টি পার্টি হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির আয়ের ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি এবং বাকি ৭০ শতাংশ পেতেন বাড়ির মালিক আবদুল্লাহ আল জহির।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত বিচারে সাজা দেওয়া হয়েছে। আটক নারীদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও তিন দিন কারাভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, পুরুষদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।