সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে ছয় বছরে প্রাণ গেছে প্রায় ৮ হাজার শিশুর,পথচারীদের বেশি মৃত্যু থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়

৩ মিনিটে পড়ুন৫ বার পড়া হয়েছে

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩১ শতাংশের বেশি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া রাস্তা পারাপার ও চলাচলের সময় পথচারী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৮১২ শিশু। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থাটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮ জন ছিল মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ১৯৩ শিশু। আর পথচারী হিসেবে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৮১২ শিশু।

পথচারী শিশুদের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ হাজার ২৭১ জন মারা গেছে সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নছিমন, ভটভটি এবং অন্যান্য থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়। এ সংখ্যা পথচারী হিসেবে নিহত শিশুদের ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপের ধাক্কা বা চাপায় ১ হাজার ১২৬ শিশু এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

সড়কের ধরন বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। এ সংখ্যা ২ হাজার ৭১৩। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু নিহত হয়েছে।

সময়ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত হয়েছে বিকেলে—২ হাজার ৬৩৪ জন। বয়সের হিসাবে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। আর ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৮৮৪।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে ২ হাজার ৫১৩ শিশু নিহত হয়েছে। বাড়ির আশপাশের সড়কে খেলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৬২ শিশু।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, শিশুদের জন্য নিরাপদ সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থার অভাব, চালকদের অদক্ষতা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের গাড়ি চালানো এবং সড়ক ব্যবহারে অসচেতনতা শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ।

সংস্থাটি শিশুদের উপযোগী নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের মতে, গ্রামীণ সড়কের পাশে বসতবাড়ি থাকলেও এসব সড়কে যানবাহন চলাচলে নিয়ম মানার প্রবণতা কম। পাশাপাশি সড়ক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও শিশুদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞানের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।