আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জ জামায়াত আমিরের

৪ মিনিটে পড়ুন৪ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথিত আঁতাত এবং দলটিকে ক্ষমা করে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো ফোরামে তিনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেননি। কেউ এমন বক্তব্যের প্রমাণ দিতে পারলে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিরোধী দলকে জড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যেরও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

‘আঁতাতের তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করুন’

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোথায়, কখন, কার সঙ্গে এবং কীভাবে আঁতাত হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ তোলা উচিত নয়। তিনি বলেন, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক।

ক্ষমা করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার

আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান গত ১২ আগস্টের একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কারও ওপর প্রতিশোধ না নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার আইনের আশ্রয় নিলে তাঁদের সর্বাত্মক সহযোগিতার কথাও জানিয়েছিলেন।

জামায়াত আমির বলেন, তাঁর বক্তব্যের একটি অংশকে বিকৃত করে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যেন তিনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। অথচ তাঁর দাবি, ওই সংবাদ সম্মেলনের পুরো বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কথা বলেননি।

তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, কোনো গণমাধ্যম তাঁর বক্তব্যের মধ্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা দেখাতে পারলে তিনি নিজেই ক্ষমা চাইবেন।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ

বক্তব্যে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ডিও লেটারের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে নিয়োগ এবং পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এসব বিষয়ে জামায়াতকে দায়ী করা হচ্ছে।

তবে কোন রাজনৈতিক দলের কোন নেতা এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন, সে বিষয়ে বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো নাম বা ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেননি তিনি।

সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও অর্থ প্রবেশের দায় সরকারের

সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অর্থ, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, সরকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সীমান্ত দিয়ে এসব অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারকে দায়িত্ব পালনে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ নিয়ে জামায়াত আমিরের চ্যালেঞ্জ নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।