গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার পক্ষে মিছিলে বাধা, পুলিশের গাড়িতে হামলা; আহত ২
গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীদের লাঠিসোঁটার আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার বুড়িমার গাছতলায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
মিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি রঘুনাথপুর এলাকার বুড়িমার গাছতলায় পৌঁছালে সেখানে টহলরত পুলিশের একটি দল মিছিলে বাধা দেয়।
এতে মিছিলকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালান এবং গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশের গাড়িতে হামলা ও সদস্যদের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
আহত দুই পুলিশ সদস্য
ঘটনায় আহত দুই পুলিশ সদস্যকে লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা এবং তাঁরা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদনে আহতদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফুলমিয়া ও একজন কনস্টেবল রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, কাউকে আটক করা হয়েছে কি না কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, সরকারি গাড়িতে হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত করার ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এখন পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এড়ানো এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখাও জরুরি।
