‘ধর্ম যার যার’ কোন অর্থে গ্রহণযোগ্য, ব্যাখ্যা দিলেন বায়তুল মোকাররমের খতিব

৪ মিনিটে পড়ুন৭ বার পড়া হয়েছে

‘ধর্ম যার যার’—প্রচলিত এই কথাটির অর্থ ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। তিনি বলেছেন, কাউকে জোর করে মুসলমান বানানো যাবে না—এ অর্থে কথাটি সঠিক। তবে ইসলামকে সত্য ধর্ম হিসেবে বিশ্বাস করার পাশাপাশি অন্য ধর্মগুলোকেও সমানভাবে সত্য ও সঠিক বলে স্বীকৃতি দেওয়া ইসলামের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর মতে, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সব ধর্মকে সমানভাবে সত্য বলে বিশ্বাস করা এক বিষয় নয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার খুতবায় সমসাময়িক ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ঈমানের মৌলিক বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদে তাঁর বক্তব্যের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

‘ধর্ম যার যার’ কথাটির ব্যাখ্যা

মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘ধর্ম যার যার’ বলতে যদি বোঝানো হয় যে কাউকে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না, তাহলে এ বক্তব্য ইসলামী শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

তবে এই কথার অর্থ যদি এমন হয় যে ইসলাম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, ইহুদি ধর্ম ও খ্রিষ্টধর্ম—সবকটিই সমানভাবে সত্য ও সঠিক, তাহলে তা একজন মুসলমানের ঈমানের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবগুলোকে যদি সত্য ও সঠিক বলে সমর্থন দিতে চান, তবে আপনার নিজেরই তো আর ঈমান থাকবে না।’

খতিবের বক্তব্যে মূলত দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা হয়েছে। প্রথমত, ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি না করা এবং অন্যের ওপর ধর্ম চাপিয়ে না দেওয়া। দ্বিতীয়ত, নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোন ধর্মকে সত্য বলে স্বীকার করা। তাঁর ব্যাখ্যায়, প্রথম বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হলেও দ্বিতীয় ক্ষেত্রে একজন মুসলমানকে ইসলামের নির্ধারিত আকিদার ওপর অবিচল থাকতে হবে।

তাওহিদ ও ঈমানের ওপর অবিচল থাকার আহ্বান

খুতবায় ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস তাওহিদের গুরুত্ব তুলে ধরেন মুফতি আব্দুল মালেক। তিনি মুসলমানদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র ওপর দৃঢ় থাকার এবং জেনে-বুঝে শিরকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের বিশ্বাস ও কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা ঈমানের মৌলিক ভিত্তি। তাই একজন মুসলমানের জন্য নিজের আকিদা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং বিশ্বাসের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

শিরক সম্পর্কে কোরআনের নির্দেশনা

বক্তব্যে শিরকের পরিণতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোরআনের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন খতিব। তিনি বলেন, কেউ তওবা না করে শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তা ক্ষমা করা হবে না। অন্যদিকে, শিরক ছাড়া অন্যান্য গুনাহের ক্ষেত্রে আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করতে পারেন।

পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নিসার ৪৮ নম্বর আয়াতেও এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। আয়াতটিতে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমার অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এর চেয়ে কম গুরুতর গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মুফতি আব্দুল মালেক মুসলমানদের তওবা, বিশুদ্ধ আকিদা এবং আল্লাহর একত্বের ওপর বিশ্বাস অটুট রাখার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও সহাবস্থানের প্রশ্ন

‘ধর্ম যার যার’ কথাটি বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় আলোচনায় বহুল ব্যবহৃত। এ কথার ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা তৈরি হয়। মুফতি আব্দুল মালেকের বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতার অর্থ এবং ইসলামের নিজস্ব বিশ্বাসগত অবস্থানের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্য কাউকে জোর করে মুসলমান বানানো যাবে না—এ নীতি স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে একজন মুসলমানকে সব ধর্মকে সমানভাবে সত্য বলে বিশ্বাস করতে হবে। একই সঙ্গে বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি করা ইসলামী শরিয়াহর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

সব মিলিয়ে, জুমার খুতবায় মুসলমানদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও তাওহিদের ওপর অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। পাশাপাশি ‘ধর্ম যার যার’ কথাটির অর্থ নির্ধারণে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্বাসের পার্থক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।