এনসিপির কমিটিতে আলেমের সংখ্যা ৪ থেকে ২, ক্ষোভ দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদির
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি। আন্দোলনে আলেমদের অবদান থাকলেও সংগঠন পুনর্গঠনের সময় তাঁদের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে ধর্মীয় বিষয়ে আলেমদের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র ও আইন গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
‘সংখ্যাটা চার থেকে দুইয়ে নেমে এসেছে’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করা হয়। নতুন কমিটিতে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরে মাহদি লেখেন, আগের কমিটিতে চারজন আলেম থাকলেও নতুন কমিটিতে তাঁদের সংখ্যা কমে দুইয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘সংখ্যাটা চার থেকে দুইয়ে নেমে এসেছে। দুইজন মাইনাসের কারণ জানা নাই। আর যে দুইজনকে রাখা হলো, তাদেরও নামকাওয়াস্তে।’
এনসিপির এই নেতা মনে করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে আলেমদের অংশগ্রহণ ও অবদান থাকলেও সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাঁর পোস্টে এ নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের প্রকাশ দেখা যায়।
‘কাজ শুধু আন্দোলনে রক্ত দেওয়া’
পোস্টে ধর্মীয় পোশাক ও পরিচয়ের কারণে আলেমদের রাজনৈতিক সংগঠনে কম গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন মাহদি। তিনি লেখেন, টুপি ও ধর্মীয় পোশাক পরা ব্যক্তিদের কাজ যেন শুধু আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও রক্ত দেওয়া; সংগঠন গড়ে ওঠার পর তাঁদের গুরুত্ব কমতে থাকে।
ধর্মীয় বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য নিয়েও দলের ভেতরে আপত্তি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখেন, ‘আমাদের লাগবে মিলাদ পড়ানোর হুজুর।’
এরপর রাষ্ট্র ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে আলেমদের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি মনে করছেন।
নতুন কমিটিতে কারা রয়েছেন?
এনসিপির আগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি ছাড়াও মাওলানা সানাউল্লাহ খান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম আইনী ও মাওলানা ইনজিমামুল ইসলাম ছিলেন।
পুনর্গঠিত কমিটিতে আশরাফ উদ্দিন মাহদি কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে, মাওলানা সানাউল্লাহ খানকে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। তবে আগের কমিটিতে থাকা মাওলানা রফিকুল ইসলাম আইনী ও মাওলানা ইনজিমামুল ইসলাম নতুন কমিটিতে স্থান পাননি।
নতুন কমিটিতে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মাহদির বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট এটি। তাঁর অভিযোগ, শুধু সংখ্যা কমে যাওয়াই নয়, কমিটিতে থাকা আলেমদের অবস্থানও যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
দলের ভেতরে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কারা থাকবেন, তা দলটির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে পুনর্গঠিত কমিটিতে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে একজন শীর্ষ নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষ দলটির অভ্যন্তরীণ প্রতিনিধিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাহদির বক্তব্যে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অবদান এবং পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টনের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার প্রশ্নও উঠে এসেছে। তবে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব কমানোর পেছনে দলীয় নেতৃত্বের নির্দিষ্ট কারণ বা এ বিষয়ে এনসিপির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তাঁর পোস্টে পাওয়া যায়নি।
এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটিতে আলেমদের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলটির ভেতরে কী ধরনের আলোচনা হয় এবং নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
