ইয়েমেনে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান পোপ লিওর, উদ্বেগ তায়েজের মানবিক সংকট নিয়ে

৫ মিনিটে পড়ুন২ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনে চলমান সহিংসতা বন্ধ করে দেশটির জনগণের জন্য শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের দিকে মুখ করা প্রাসাদের জানালা থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তায়েজের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য উপস্থিতিগুলোর একটি।

পোপ বলেন, তায়েজের মানুষ খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবার অভাবে ভুগছেন। ইয়েমেন এবং পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে তিনি অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানান।

রোববারের প্রার্থনা ও বক্তব্যের সময় পোপ উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন এবং তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অস্ত্রোপচারের পর এদিন তাঁকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও প্রকাশ্যে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

তায়েজের মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে বহু মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। খাদ্য, পানীয় জল এবং চিকিৎসাসেবার ঘাটতি দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মানবিক সংকটকে তীব্র করেছে। পোপ লিও তাঁর বক্তব্যে তায়েজের মানুষের দুর্দশার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ইয়েমেনের জনগণ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের সব মানুষের জন্য শান্তির জীবন নিশ্চিত করতে লড়াই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর আহ্বানে যুদ্ধ ও সহিংসতার অবসানের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

পোপের বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি সমর্থন বা সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা ছিল না। বরং তিনি সংঘাতের অবসান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আবেদন জানান।

জর্ডানে গির্জায় হামলার ঘটনায় শোক

ইয়েমেনের পাশাপাশি জর্ডানে অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের একটি গির্জায় হামলার ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের জন্যও প্রার্থনা করেন পোপ। শুক্রবার জর্ডানের হামুদ গির্জায় সংঘটিত এ ঘটনাকে তিনি অর্থোডক্স ধর্মাবলম্বীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোপ বলেন, হামলার শিকার সম্প্রদায় এবং পুরো জর্ডানের জনগণের প্রতি তিনি সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সহাবস্থানের জন্য পরিচিত জর্ডানের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন।

তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শান্তি ও সহাবস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার শিকার মানুষের জন্য প্রার্থনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি।

অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দিকের প্রকাশ্য উপস্থিতি

গত ১৩ অক্টোবর পোপ লিওর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। ফুসফুসে অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অ্যাডেনোকার্সিনোমা ফুসফুসের ক্যানসারের একটি সাধারণ ধরন।

ভ্যাটিকানের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা টিস্যুর চূড়ান্ত পরীক্ষায় ক্যানসারটি স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। গত সপ্তাহে চিকিৎসকেরা জানান, পোপের আর কোনো ক্যানসার-সংক্রান্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হবে না।

অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শে পোপ তাঁর নির্ধারিত কিছু কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ান। এর মধ্যে ইতালির আসিসি শহরে ধর্মীয় নেতাদের এক শান্তি সমাবেশে যোগ দেওয়ার কর্মসূচিও ছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে সুস্থতার জন্য আরও সময় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের দিকে মুখ করা জানালা থেকে পোপের উপস্থিতি তাঁর সাম্প্রতিক সুস্থতার অগ্রগতির একটি প্রকাশ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা গেছে। তিনি বক্তব্যের সময় স্বাভাবিক কণ্ঠে কথা বলেন এবং উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে হাত নাড়েন।

আসিসিতে ধর্মীয় নেতাদের শান্তি সমাবেশ

আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইতালির আসিসি শহরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় নেতাদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পোপ লিও ওই আয়োজনের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিজে এতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে সফর বাতিল করেছেন।

সমাবেশটি বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের একত্র করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর আয়োজনটির মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে পোপ জন পল দ্বিতীয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি প্রার্থনা দিবসের ৪০ বছর পূর্তিও স্মরণ করা হবে।

ভ্যাটিকানের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এবারের আয়োজনে ৫৩টি দেশের ৩৮৪ জন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে সংঘাত, নিরস্ত্রীকরণ, অভিবাসন, দারিদ্র্য, তরুণদের ভূমিকা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মের অবদান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।