সৌদিগামী ১৪৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে পরিচালিত ১৪৬টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ২৩১ জন যাত্রী। রোববার (২৫ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে। পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখার মেয়াদও বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৯টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটে যাত্রীদের সৌদি আরব যাওয়া কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে রিয়াদ ও দাম্মামে পৌঁছানোর কথা ছিল। সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে একাধিক বিমান সংস্থার ফ্লাইটসূচিতে।
সরাসরি ফ্লাইট বেশি বাতিল হয়েছে যেসব সংস্থার
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিচালিত সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৯টি বাতিল হয়েছে। সৌদি এয়ারলাইনসের ১৯টি, রিয়াদ এয়ারের ১১টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি সরাসরি ফ্লাইটও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০টি বাতিল হয়েছে ইন্ডিগোর। এ ছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে যাত্রীদের নির্ধারিত সৌদি গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ছিল। ট্রানজিট যাত্রীদের অনেকে তৃতীয় কোনো দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট রুটে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় তাঁদের ভ্রমণসূচিও ব্যাহত হয়েছে।
একাধিক বিমান সংস্থা একই যাত্রাপথে যুক্ত থাকায় ট্রানজিট যাত্রীদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। প্রথম ফ্লাইট বাতিল হলে পরবর্তী সংযোগ ফ্লাইটে যাওয়া, বিকল্প আসন পাওয়া এবং নতুন করে যাত্রাসূচি নির্ধারণের বিষয়গুলো সামনে আসে। তবে বাতিল হওয়া ১৪৬টি ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে কতজন ইতিমধ্যে বিকল্প ফ্লাইট পেয়েছেন, সে বিষয়ে পৃথক কোনো হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট
নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখার মেয়াদ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। রোববার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ঢাকা-দাম্মাম রুটে ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত রেখেছিল। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে সৌদি আরবের সব গন্তব্যে বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১৬ অক্টোবর থেকে চালু থাকা এই সূচি ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা-মদিনা রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট চলবে।
রিয়াদ বা দাম্মামে যাওয়ার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে—এমন যাত্রীদের জন্য জেদ্দা কিংবা মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে ভ্রমণের বিকল্পের কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে বিকল্প ফ্লাইটে আসন পাওয়া এবং যাত্রার শর্ত সংশ্লিষ্ট সূচির ওপর নির্ভর করবে।
যাত্রীদের জন্য বিকল্প যাত্রাপথ
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী, ওমরাহযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য ভ্রমণকারীর জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, দেশে ফেরা কিংবা ওমরাহ পালনের যাত্রাসূচিতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে অনেককে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্যের জন্য নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলেছে। একই সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বেবিচকের সর্বশেষ হিসাবে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের কারণে ১৪৬টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং এতে মোট ২২ হাজার ২৩১ জন যাত্রীর ভ্রমণসূচি প্রভাবিত হয়েছে।
