জামি-জমা নিয়ে বিরোধ: দিলেন ধর্ষণচেষ্টার মামলা, করলেন নাটকীয় সংবাদ সম্মেলন

৪ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন উম্মে হাবিবা বৃষ্টি নামের এক নারী। তবে মামলার কয়েকজন সাক্ষী দাবি করেছেন, ঘটনার বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। এদিকে, মামলাটিকে মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন। এর দুই দিন পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন মামলার বাদী বৃষ্টি। ঘটনাটি নিয়ে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের বিলচত্রা গ্রামে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

মামলার বাদী উম্মে হাবিবা বৃষ্টি মৌরাট ইউনিয়নের খান্দুয়া গ্রামের মো. সোবাহান মন্ডলের মেয়ে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন একই গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক।

সরেজমিনে জানা গেছে, জসিম উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওহেদুজ্জামানের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি জসিম উদ্দিনের বাবার ক্রয়কৃত জমিতে ওহেদুজ্জামান জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করতে গেলে ২৭ আগস্ট পাংশা মডেল থানায় অভিযোগ করেন জসিম। পরে ৩০ আগস্ট রাজবাড়ীর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন তিনি।
এরই মধ্যে ৩০ আগস্ট রাজবাড়ীর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জসিম উদ্দিন ও তাঁর শ্যালক ইমন মন্ডলকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন ওহেদুজ্জামানের ভাতিজি উম্মে হাবিবা বৃষ্টি। এ মামলাকে মিথ্যা দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়ে ২২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করেন জসিম উদ্দিন। এর জবাবে ২৪ অক্টোবর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বৃষ্টি।

ভেটেরিনারি চিকিৎসক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর বাবা বিলচত্রা গ্রামের মৃত কুরবান আলী, আজিজুল বারি বাতাশ ও আব্দুল মজিদ মোল্লার কাছ থেকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। সম্পূর্ণ জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে কুরবান আলীর ছেলে ওহেদুজ্জামান তাঁর বাবার বিক্রি করা জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করতে গেলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন এবং রাজবাড়ীর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, এরপর ওহেদুজ্জামানের ভাতিজি তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মামলায় ঘটনার যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে, তখন তিনি রাজবাড়ীর আদালত চত্বরে ছিলেন। আদালত চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ ও তাঁর মোবাইল ফোনের লোকেশন যাচাই করলেই বিষয়টি প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে উম্মে হাবিবা বৃষ্টি দাবি করেন, জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে তাঁর সম্পত্তির দিকে নজর দেন জসিম। এতেও ব্যর্থ হয়ে সম্প্রতি তাঁকে একা পেয়ে বসতঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন বৃষ্টি।

তবে মামলার কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্য ভিন্ন। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে বাদীর ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়ে অমির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় সাক্ষী ওহেদুজ্জামান ওরফে ওলপেদ বলেন, “আমি মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে দেখি বৃষ্টির বাড়িতে পুলিশ এসেছে। তখন বৃষ্টি আমাকে একটি কাগজে সই দিতে বলে। আমি সই করি। পরে জানতে পারি, জসিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”

তৃতীয় সাক্ষী মো. আজগর আলী বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। পুলিশ একটি কাগজে সই দিতে বলেছে, তাই সই করেছি। ঘটনার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”

চতুর্থ সাক্ষী মিলন বলেন, “ওরা কী বুঝে মামলা দিয়েছে, জানি না। কোনো ঝামেলা থাকলে আপস করে নেওয়াই ভালো।”

পঞ্চম সাক্ষী আকাশ বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে জসিম উদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বারবার থানায় ডাকা হলেও তাঁরা উপস্থিত হননি। সংবাদ সম্মেলন করা ওই নারীও কোনো অভিযোগ দিতে থানায় আসেননি। মামলা না নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।