‘নতুন স্বৈরাচারের উত্থান’, শাহবাগে নাহিদের হুঁশিয়ারি; দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

৫ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

দেশে একটি স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর নতুন করে স্বৈরাচারের উত্থান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও নতুন করে গড়ে ওঠা স্বৈরাচার—উভয় শক্তিকেই পরাজিত করা হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এনসিপির গণবিক্ষোভ সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও দেশে এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে। জনগণের সামনে তাঁদের প্রতিশ্রুতি, পুরোনো ও নতুন—দুই স্বৈরাচারকেই পরাজিত করা।

সরকারকে নিয়ে নাহিদের সমালোচনা

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রাহাজানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এসব ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুই মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সারা দেশে মিছিল করা হবে। সেই মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একতরফাভাবে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।

আগামী ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার পতিত স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করতে পারবে না। এ পরিস্থিতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ ও সাধারণ জনগণকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ন্যায্য স্বার্থ ও পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি ন্যায্যভাবে নবায়ন না হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

এলপিজির দাম নিয়ে প্রশ্ন আখতার হোসেনের

সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেনও বক্তব্য দেন। তিনি দেশে এলপিজির উচ্চমূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আখতার হোসেনের দাবি, কলকাতায় যেখানে এলপিজির দাম প্রায় এক হাজার টাকা, বাংলাদেশে একই পণ্য কিনতে হচ্ছে আড়াই হাজার টাকায়। ইরান যুদ্ধের প্রভাব কলকাতায় না পড়লেও বাংলাদেশে কেন এত বেশি দাম দিতে হচ্ছে, সে বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান আখতার হোসেন।

সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার সভাপতিত্ব করেন। এতে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য মাহমুদা আলমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন দলটির নেতারা।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।