এইচএসসি ও সমমানে পাস ৫২.১২%, ৯ সাধারণ বোর্ডে ২২ বছরের সর্বনিম্ন

৫ মিনিটে পড়ুন২ বার পড়া হয়েছে

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ন

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

গত বছর ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছর ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। অর্থাৎ এক বছরে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

৯ সাধারণ বোর্ডে ২২ বছরের সর্বনিম্ন পাসের হার

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। এসব বোর্ডে সম্মিলিত পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর সম্মিলিত পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সর্বশেষ ২০০৪ সালে এ হার এর চেয়ে কম ছিল; ওই বছর পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সব কটিতেই গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে। সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে বরিশাল বোর্ডে। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, এবার কমে হয়েছে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বোর্ডভিত্তিক ফলে কোথায় কত পাস

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, সিলেটে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অন্যদিকে দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, যশোরে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং বরিশালে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

সমমানের পরীক্ষার মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, যা গত বছরের ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশের তুলনায় কম।

পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা, জিপিএ-৫-এ ছাত্ররা

এবারের ফলাফলে পাসের হারে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ১১টি বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী এবং ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররা এগিয়ে। এবার ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছেন। দুই বিভাগের মধ্যে ব্যবধান ৬৪২ জন।

বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার বেশি

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ফলাফলে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের মধ্যে পাসের হারের ব্যবধান ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিভাগভিত্তিক এ পার্থক্য এবারের ফলাফলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ থেকে ৭ নভেম্বর

ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে আবেদনপদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।

এবারের ফলে একদিকে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর সম্মিলিত ফল নেমে এসেছে দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।